মাদরাসা পরিচিতি

‘আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী’ দেশের অনন্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ পরিচালিত এই মাদরাসাটি ১৪০১ হিজরী মোতাবেক ১৯৯১ খৃষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই অত্র প্রতিষ্ঠানটি যথার্থভাবে কুরআন, হাদীছ, আরবী ভাষা ও সাহিত্য, ইসলামী ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষাদানে গুরুত্বারোপ করে আসছে। ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির আলোকে আগামী প্রজন্মকে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলাই এর প্রধান লক্ষ্য। সাথে সাথে ইলমে দ্বীনের যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ আক্বীদার প্রসার ঘটানো এবং ইসলামের নামে প্রচলিত ভ্রান্ত আক্বীদা ও আমলের সংস্কার সাধনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নৈতিক আদর্শ একটি জাতির সভ্যতার প্রধান মাপকাঠি। উন্নত আদর্শ ব্যতীত কোন জাতিই নৈতিকতার সর্বোচ্চ মান অর্জন করতে পারে না এবং স্বীয় অস্তিত্বও টিকিয়ে রাখতে পারে না। অথচ শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের এই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধর্মনিরপেক্ষ ও বস্তুবাদী ধারায় পরিচালিত হচ্ছে এবং ইসলামী আদর্শ ও নৈতিকতার দিকটি চরমভাবে উপেক্ষিত রয়েছে। যা স্বভাবতঃই শিক্ষার্থীদের কোমল মনে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এমতপ্রেক্ষিতে সীমিত সামর্থ্যের মাঝেও ‘আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী’ এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করছে, যা বৃটিশ প্রবর্তিত প্রচলিত মাদরাসা শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার দ্বি-মুখী ধারাকে সমন্বিত করে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ্ ভিত্তিক একক ও পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় পথ প্রদর্শন করে। ধনী-গরীবের বৈষম্যহীন সহজলভ্য শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা এবং ছেলে ও মেয়েদের পৃথক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে উভয়ের জন্য উচ্চ শিক্ষা ও পৃথক কর্মক্ষেত্র ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্র শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জন নয়; বরং চূড়ান্ত অর্থে পরবর্তী প্রজন্মকে দ্বীনী চরিত্রবান ও জ্ঞানসম্পন্ন সচেতন নাগরিক এবং বিশুদ্ধ আক্বীদাসম্পন্ন আদর্শ মুসলিম হিসাবে গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির একান্ত লক্ষ্য। বর্তমানে ১০০ ইয়াতীমসহ আবাসিক-অনাবাসিক প্রায় সাড়ে ছয়শতাধিক ছাত্র এখানে পড়াশোনা করছে।

 প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য :

  1. পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে শিক্ষাদান।
  2. মুহাদ্দিছীনের মাসলাক অনুসরণে ও সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী পবিত্র কুরআন ও হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান।
  3. শিরক ও বিদ‘আত এবং ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারমুক্ত ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনুশীলন ও বিকাশ সাধন। 
  4. ইসলামের নির্ভেজাল রূপ জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য আল্লাহভীরু যোগ্য আলেমে দ্বীন, লেখক, অনুবাদক, বাগ্মী, গবেষক ও পেশাজীবী তৈরী করা।
  5. সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নেতৃত্ব ও দাঈ ইলাল্লাহ গড়ে তোলা।

প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান :

অত্র প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষানগরী রাজশাহীর নওদাপাড়া আমচত্বর সংলগ্ন নিজস্ব ক্যাম্পাসে এক মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের দু’পাশে প্রায় সাড়ে দশ বিঘা জমির উপর অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে দোতলা ও তিনতলা বিশিষ্ট দু’টি সুরম্য ভবন রয়েছে। যার একটি ছাত্রাবাস ও অপরটি একাডেমিক ভবন হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 বৈশিষ্ট্য সমূহ :

  1. শিক্ষার্থীদেরকে নির্ভেজাল তাওহীদ ও ছহীহ সুন্নাহ্র আলোকে চরিত্রবান ও সুন্নাতের পাবন্দ করে গড়ে তোলা।
  2. যোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা পাঠ দান।
  3. প্রতি বছর বোর্ড পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল।
  4. মেধাবী ছাত্রদেরকে পুরস্কৃত করণ।
  5. বাংলা, আরবী, ইংরেজী ও উর্দূ ভাষায় ব্যবহারিক দক্ষতা সৃষ্টি।
  6. শিক্ষকমন্ডলীর তত্ত্বাবধানে আবাসিক ছাত্রদের সার্বক্ষণিক তদারকি।
  7. মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ ও উন্মুক্ত খেলার মাঠ।
  8. নিজস্ব চিকিৎসকের মাধ্যমে ছাত্রদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা।
  9. নিয়মিত খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা।
  10. মেধা বিকাশের জন্য ছাত্রদের উদ্যোগে সাময়িকী প্রকাশ ও অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ।
  11. ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্য অধ্যয়নের জন্য সমৃদ্ধ পাঠাগার।
  12. আবাসিক ছাত্রদের মানসম্পন্ন আবাসন ও আহারের ব্যবস্থা।
  13. ইয়াতীম ছাত্রদের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র বিভাগ।   
  14. মেধাবী দরিদ্র ছাত্রদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা।
  15. মানসম্পন্ন হাফিযে কুরআন তৈরীর জন্য হিফয বিভাগ।
আলিম পাশ করার পর দাওরায়ে হাদীছ বিভাগে অধ্যয়নের ব্যবস্থা ও মেধাবী ছাত্রদের জন্য মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ।